Monday, 26 March 2018

১ মাসে ৪ বার চীনা সেনার ভারতীয় বায়ুসীমা লঙ্ঘন


চীনা সেনা এক মাসে ৪ বার ভারতের বায়ুসীমা লঙ্ঘন করেছে. পিপল'স লিবারেশন আর্মির হেলিকপ্টার লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পেরিয়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় বায়ুসীমায় প্রবেশ করে. গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে উত্তরাখণ্ডের বারাহটি, লাদাখের ডেপসাং উপত্যকা ও ট্রিগ হাইট ও বুর্টসেতে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পেরিয়ে চীনা হেলিকপ্টার ভারতীয় বায়ুসীমায় প্রবেশ করে.
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৮ই মার্চ, যেদিন ২টি চীনা হেলিকপ্টার লাদাখের ট্রিগ হাইট এ সকাল ৮.৫৫ তে বায়ুসীমা লঙ্ঘন করে. বিস্ময়করভাবে হেলিকপ্টার দুটি ট্রিগ হাইট এর ১৮ কিলোমিটার অভ্যন্তরে চলে আসতে সমর্থ হয়. উল্লেখ্য যে ট্রিগ হাইট টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ রয়েছে.
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে যে চীনা হেলিকপ্টারের এটাই প্রথম বায়ুসীমা লঙ্ঘন নয়. এই বছরেরই ২৭ই ফেব্রুয়ারী চীনা হেলিকপ্টার ট্রিগ হাইট এর উপর দিয়ে ১৯ কিলোমিটার ভিতরে প্রবেশ করেছিল.
হেলিকপ্টার দুটি প্রায় ৫ মিনিট ভারতীয় সেনা ক্যাম্পের উপর উড়তে থাকে এবং সীমান্ত বরাবর ভারতীয় সেনার উপস্থিতি ও পরিমান পর্যবেক্ষণ করে.
তৃতীয় বায়ুসীমা লঙ্ঘনটি ঘটেছিলো ১০ই মার্চ, সেদিন উত্তরাখণ্ডের বারাহটি সীমান্তে ৩টি চীনা হেলিকপ্টার ভারতীয় বায়ুসীমার ৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে. কিছু রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে বারাহটির উপর প্রায় ৫ মিনিট চীনা হেলিকপ্টারগুলো উড়েছিল, সীমান্ত পেরিয়ে ফায়ার যাওয়ার আগে.
চীন সেনার এই বায়ুসীমা লঙ্ঘন নিয়ে সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি. সকারের তরফ থেকে নিশ্চয় আধিকারিকভাবে চীনের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এই নিয়ে. কিন্তু ঘটনাগুলোর বিবরণ থেকে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে চীনা হেলিকপ্টারগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই নির্দিষ্ট  কিছু লক্ষ্য নিয়ে ভারতীয় বায়ুসীমায় প্রবেশ করেছিল. তাই আধিকারিকভাবে প্রতিবাদ চীনকে আগ্রাসী নীতি থেকে বিরত রাখতে কোনোরকম সহায়ক হবে বলে মনে হয়না. ভারত সরকারকে এর কোনো সমাধানের পথ খুঁজতেই হবে, নতুবা আগামী দিনে আমরা এমন আরও বেশি সংখ্যাই ঘটনা দেখবো.

Friday, 23 March 2018

ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঘাত জোরদার করতে গুজরাটে নতুন বিমানঘাঁটি

পাকিস্তান সীমান্তে পরিকাঠামো বৃদ্ধির একটি বৃহৎ পদক্ষেপ হিসাবে নতুন দিল্লি ভারতীয় বিমান বাহিনীকে গুজরাটের দিসাতে একটি নতুন বিমান ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি দিলো.

 বিমান ঘাঁটিটি নির্মাণে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে.বিমান ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি সম্প্রতি প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির মিটিঙে নেওয়া হয়েছে. এই কমিটি হলো প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ কমিটি এবং এর প্রধান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী.

প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানাচ্ছে যে দিসা বিমান ঘাঁটি ভুজ,নালিয়া ও বিকানির বিমান ঘাঁটির পরিপূরক হিসাবে কাজ করবে.
এই বিমান ঘাঁটিটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কম্যান্ড এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে. দিসা আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুবই নিকটে অবস্থিত এবং পশ্চিম সীমান্তের ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের শূন্যস্থানগুলো হ্রাস করবে. সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কম্যান্ড গুজরাট,মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের প্রতিরক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত.

বর্তমানে দিসাতে অসামরিক বিমান ওঠা-নামার জন্য একটি এয়ার স্ট্রিপ রয়েছে. বিমানবাহিনী এয়ার স্ট্রিপটি উন্নয়নের সাথে সাথে বিমান রাখার জন্য বিস্ফোরক-নিরোধক পরিকাঠামোও নির্মাণ করবে. ৪০০০ একর জায়গায় নির্মিত এই ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক বিমান মোতায়েন করা হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দ্যেশ্যে.

 সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ আগেই হয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু পূর্বতন সরকার ঘাঁটিটি নির্মাণের অনুমতি দেয়নি. বিমান ঘাঁটিটি মূলত পশ্চিম সীমান্তের বায়ুপথের সুরক্ষা জোরদার করার উদ্দ্যেশ্যে এবং গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে প্রতিরক্ষা প্রদানের জন্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.

Thursday, 22 March 2018

ভারতে নির্মিত সিকার দ্বারা প্রথমবার ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষণ হলো

২২শে মার্চ, বৃহস্পতিবার, রাজস্থানের পোখরানে ভারত ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষণ করলো. প্রথমবারের জন্য ভারতে নির্মিত একটি সিকার ব্যবহার করা হয় মিসাইলটিতে. সিকার হলো একটি মিসাইলের মস্তিস্ক. সিকারের কাজ হলো লক্ষ্যবস্তুকে নির্দিষ্ট করা এবং তাকে পর্যবেক্ষণ করে আঘাত করার জন্য মিসাইলকে সঠিক পথে পরিচালিত করা.
গত বছরের নভেম্বরে সুপারসনিক মিসাইলটি শেষবারের জন্য বিমান বাহিনীর সু-৩০ বিমান থেকে পরীক্ষা করা হয়. গত বছরের দুবাই এয়ার শোতেও ব্রহ্মস মিসাইল প্রদর্শন করা হয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল. ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া সহ আরও ১২টি দেশের প্রতিনিধি ব্রহ্মস এর ষ্টল পরিদর্শন করে এবং মিসাইলটির কার্যকারিতা সম্পর্কে অনুসন্ধান করে.
এই বছরের মধ্যে ব্রহ্মস এয়ার ভার্শনের সকল পরীক্ষা সমাপ্ত হবে. তার পর ব্রহ্মস হবে এমন একটি মিসাইল, যা ভূমি, বায়ু বা সমুদ্র থেকে ব্যবহার করা যাবে.

ভিডিও দেখুন:  ভারতীয় বিমান বাহিনী S-400 এয়ার ডিফেন্স দ্বারা চীন J-20 বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম

Wednesday, 21 March 2018

ভারতীয় বিমানবাহিনী S-400 দ্বারা চীনের পঞ্চম প্রজন্মের J-20 বিমানের মোকাবিলা করতে সক্ষম


ভারতীয় বিমানবাহিনী, চীনা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ বিমান J-20  কে S-400 মিসাইল সিস্টেম দ্বারা প্রতিহত করতে পারবে. চীনের নতুন J-20 বিমান যথেষ্ট স্টিলথি নয় এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী উদ্ভূত বিপদের মোকাবিলা করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন এক বরিষ্ঠ বিমানবাহিনীর আধিকারিক যিনি চীনের সামরিক আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন.

S-400 ট্র্যায়ামফ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম, যা  রাশিয়া থেকে ক্রযের প্রক্রিয়া চলছে এবং আমাদের কাছে থাকা মধ্যম দূরত্বের সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম দ্বারা আমরা J-20 বিমানকে মধ্য আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম. বায়ুসেনার আধিকারিকটি  আরও জানিয়েছেন যে J-20 একটি প্রকৃত পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নয়. কারণ বিমানটির নকশা স্টিলথি নয় এবং ইহা বর্তমানে ব্যবহৃত WS-10 ইঞ্জিনের দ্বারা সুপার ক্রুজ গতিতে উড়তেও সক্ষম নয়. সুপার ক্রুজ গতিতে ওড়ার সময় বিমানকে শনাক্ত করা খুবই শক্ত এবং পঞ্চম প্রজন্মের বিমান,স্টিলথ ক্যাপাবিলিটি যুদ্ধসাজের সহিত সুপার ক্রুজ গতিতে উড়তে সক্ষম হয়.
গতমাসে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক ঘোষণা করে যে পিপলস  লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স  J-20  বিমান পরিষেবায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে.  অন্যদিকে ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের FGFA বিমান নির্মাণের পরিকল্পনাটি টেবিলেই রয়ে গিয়েছে.

দিল্লির সেন্টার ফর এয়ার পাওয়ার স্টাডিস-এর এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল  তথা ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন উপপ্রধান এয়ার মার্শাল কে. কে. নোয়ার জানিয়েছেন যে তিনি বায়ুসেনার সাথে একমত যে ভারত J-20 বিপদ মোকাবিলা করতে সক্ষম.

কয়েক বিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে একটি পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণের পরিকল্পনাটি অধরাই রয়ে গেলো. ভারতীয় বিমানবাহিনী বিশ্বাস করে যে প্রস্তাবিত বিমানের ভিত্তিতে স্টিলথ বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে এবং আমেরিকার  এফ-35 বা এফ-22 এর মত সক্ষমও নয়.

ভারত রাশিয়ার সাথে 5 টি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে. S-400, ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন বা  মিসাইলকে ধ্বংস করতে সক্ষম. চুক্তিটি হবে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার. এপ্রিলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাননীয়া নির্মলা সীতারামনের রাশিয়া সফরকালে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে যে এর মূল্যটাই মূল চিন্তার বিষয়, আমরা কিছু প্রশ্ন রাশিয়ার সামনে উত্থাপন করেছি S-400 নিয়ে. বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণের সাথে যুক্ত ভারতীয় বায়ুসেনার অন্য এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে এটি একটি খরচসাপেক্ষ ভিত্তি কিন্তু এই সিস্টেমের সক্ষমতা প্রশ্নাতীত.
বর্তমানে FGFA নিয়ে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা খুবই শক্ত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে. ভারতীয় বিমানবাহিনী যেখানে প্রকল্পটি বাতিল করতে চাইছে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের নিয়োগ করা একটি উচ্চ ক্ষমতাশালী কমিটি, প্রকল্পটির সাথে এগিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছে.